আবার ফের চাঁদের মাটিতে চন্দ্রযান 4 এবং 5। পাঁচ বছরে 70 টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সম্ভাবনা: জানিয়েছেন ISRO প্রধান মঙ্গলবার (20 আগস্ট,2024) ইসরো প্রধান এস. সোমনাথ জানিয়েছেন চন্দ্রযান 4 এবং 5- এর ডিজাইন সম্পূর্ণ তৈরি করা হয়েছে এবং সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়া চালু হয়েছে।
চন্দ্রযান ফোর এবং ফাইভ মিশনের আসল উদ্দেশ্য হল এই যে চন্দ্র বিষয়ে আরো অজানা তথ্য নিখুঁতভাবে পৃথিবীতে পৌঁছানো। চাঁদের মাটি কি পৃথিবীর মতোই ?চাঁদের পাথরগুলো কেমন দেখতে? এসব প্রশ্নের উত্তরের আশায় আবারো উৎক্ষেপণ হতে চলেছে আমাদের নতুন চন্দ্রেযানদুটি। এছাড়াও চাঁদ থেকে একটি মহাকাশ যান উৎক্ষেপণের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। যেটির কাজ চন্দ্রের কক্ষপথে পরিক্রমণ করে পৃথিবীকে তথ্য পাঠানো।
এস.সোমনাথ জানিয়েছেন চন্দ্রযান 3 সম্পূর্ণ হয়েছে তাই পরবর্তী মিশনের জন্য সরকারের কাছে অনুমোদন চাওয়া হচ্ছে। এস. সোমনাথ আরো জানিয়েছেন মহাকাশ সংস্থা গত 5 বছরে ৭০ টি স্যাটেলাইটের পরিকল্পনা করেছে। এই ৭০ টি স্যাটেলাইটের মধ্যে রয়েছে চারটি NAVIC আঞ্চলিক নেভিগেশন সিস্টেমের জন্য পজিশনিং,নেভিগেশন এবং টাইম সার্ভিস, 4D আবহাওয়া স্যাটেলাইট, রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট ইত্যাদি।
গত ৫ বছরে পৃথিবীর পরি দর্শনের জন্য পৃথিবীর কক্ষপথে ভ্রাম্যমান উপগ্রহগুলির একটি সিরিজ চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এস. সোমনাথ ।
ইসরো এছাড়াও গগনযান মিশনের জন্য বিভিন্ন স্যাটেলাইট ইণ্টারনেট সংযোগের জন্য বিভিন্ন উপগ্রহ এবং GSAT স্যাটেলাইট তৈরি করেছে, যা রকেটে উৎক্ষেপণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে । সমস্ত পরিকল্পনা এক দেড় মাসের মধ্যে শ্রীহরিকোঠায় পৌঁছে যাবে এবং মোটামুটি ডিসেম্বর মাসে মিশনটি উৎক্ষেপণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
চন্দ্রযান ৪ এবং ৫ মিশন
চন্দ্রযান ২-এর সাফল্যের পর, ISRO আরও দুইটি চন্দ্র অভিযানের পরিকল্পনা করেছে: চন্দ্রযান ৪ এবং ৫। চন্দ্রযান ৪ মিশনটি হবে একটি উন্নততর ল্যান্ডার এবং রোভার মিশন, যা চাঁদের পৃষ্ঠের আরও গভীর অধ্যয়ন করবে। এই মিশনটি চাঁদের দক্ষিণ মেরুর আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলি আবিষ্কার করতে সক্ষম হবে, যেখানে বরফের উপস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
চন্দ্রযান ৫ মিশনটি আরও বড় ও জটিল হবে। এটি একটি মুন অরবিটার এবং ল্যান্ডার মিশন হিসেবে কাজ করবে, যার মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠ এবং উপ-পৃষ্ঠের আরও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই মিশনের লক্ষ্য হবে চাঁদের ভূতত্ত্ব এবং গঠন সম্পর্কে আরও গভীরতর গবেষণা করা।
৭০টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ
ISRO প্রধান আরও উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। আগামী পাঁচ বছরে ৭০টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা নিয়ে ISRO কাজ করছে। এই স্যাটেলাইটগুলি বিভিন্ন ধরনের, যেমন যোগাযোগ, আবহাওয়া, রিমোট সেন্সিং, এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা স্যাটেলাইট অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই মেগা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কর্মসূচি ভারতের মহাকাশ শক্তিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিশ্ব মহাকাশ গবেষণায় ভারতের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে। ISRO-এর এই উদ্যোগ দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, এবং এটি দেশের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে গণ্য হবে।
উপসংহার: চন্দ্রযান ৪ এবং ৫ এবং আগামী পাঁচ বছরে ৭০টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ISRO প্রধানের ঘোষণায় ভারত মহাকাশ অভিযানে একটি নতুন দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পরিকল্পনাগুলি শুধু ভারতের মহাকাশ গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক নয়, বরং বিশ্ব মহাকাশ অভিযানে ভারতের নেতৃত্বের প্রমাণ হিসেবে দাঁড়াবে। ISRO-এর এই উদ্যোগ ভারতকে মহাকাশ গবেষণায় একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে এবং দেশের বিজ্ঞানীদের কৃতিত্ব আরও বৃদ্ধি করবে।